মো. মতিয়ার রহমান : ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত বিতর্কিত ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর চালানো অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ওই বছরের ৭ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর বিভিন্ন মামলায় দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর চালানো হয় বর্বর ও নিষ্ঠুর নির্যাতন। সে সময় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় চোখ বেঁধে অন্ধকার ঘরে ঝুলিয়ে রাখা এবং সিমেন্টের মেঝেতে আছাড় দেওয়াসহ নানাবিধ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। যার ফলে তার মেরুদণ্ডের দুটি হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি মারাত্মকভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হলেও সুচিকিৎসার পরিবর্তে চরম অবহেলা ও মানসিক নিপীড়ন জারি রাখা হয়। তৎকালীন চিকিৎসকদের মেডিকেল রিপোর্ট এবং আইনজীবীদের বক্তব্যে তার এই গুরুতর শারীরিক ও মেরুদণ্ডের জখমের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে দেশি-বিদেশি তীব্র চাপ এবং আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় ১৮ মাস বন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি সব মামলায় জামিন পান। তবে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও তৎকালীন ১/১১-এর সরকারের কুশীলবদের প্রচণ্ড চাপ, বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সুচিকিৎসার তীব্র প্রয়োজনে এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি হন তিনি। তৎকালীন রাজনৈতিক মহলের একাংশ ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তিনি রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে দেশত্যাগ করেছিলেন। তবে বিএনপি এবং তারেক রহমানের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বরাবরই একে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার এবং জবরদস্তিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
জামিনে মুক্তির ঠিক আট দিন পর, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশের ফ্যাসিবাদের পতন এবং ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের পর তিনি স্বদেশে ফিরে এসে বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ১/১১-এর সেই অমানবিক নির্যাতন ও জবরদস্তির ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের এক চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে।
১/১১ সরকারের বর্বর নির্যাতন ও তারেক রহমানের নির্বাসন: এক কালো অধ্যায়ের ইতিহাস
প্রিন্ট



